জুয়া, অনলাইন জুয়া, সাইবার অপরাধ ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে আরও যুগোপযোগী আইন প্রণয়নে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, নতুন কঠোর আইন তৈরির জন্য ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন আইন করা হবে।
রোববার (১০ মে) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ মিলনায়তনে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কল্যাণ সভা’য় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বিপিএম।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের ধরন ও মাত্রা পরিবর্তিত হয়েছে। আধুনিক অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জন জরুরি। অন্যথায় অপরাধ দমনে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন কঠিন হবে।
তিনি বলেন, গত দুই মাসে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক রাখতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
মব কালচার বন্ধে সরকার বিদ্যমান আইন সংশোধন ও সংযোজন করে যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি পুলিশ বাহিনীকে জনপ্রত্যাশা ও জনআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘদিন চাকরি করেও অনেক কনস্টেবল পদোন্নতির সুযোগ পান না। এ কারণে বিশেষ নীতিমালা ও চাকরির সন্তোষজনক রেকর্ডের ভিত্তিতে অবসরকালীন সময়ে কিছু সংখ্যক সদস্যকে অনারারি পদোন্নতি দেওয়া হবে। এর আওতায় কনস্টেবল থেকে অনারারি এএসআই, এএসআই থেকে অনারারি এসআই এবং এসআই থেকে অনারারি ইন্সপেক্টর পদে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টায় দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের জন্য ওভারটাইম ভাতা চালুর বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে। ইন্সপেক্টর থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত সদস্যরা এ সুবিধার আওতায় আসতে পারেন বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালগুলোকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হবে। প্রয়োজনীয়তা যাচাই শেষে নতুন ও উন্নত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হবে।
এছাড়া পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ভবন ও আবাসন সংকট নিরসনে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীকে একটি জনকল্যাণমুখী ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো ধাপে ধাপে পূরণ করা হবে।
ক.ম/



