মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৪ ২০২৬ | ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল | ৬ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

পদোন্নতি বঞ্চিত পুলিশ কর্মকর্তার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া: সবার ট্র্যাক রেকর্ড আছে

:: নিজস্ব প্রতিবেদক, সাইবারবার্তা ::  

চকরির বয়স ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও দীর্ঘদিন পদোন্নতি বঞ্চিত হয়ে আসছিলেন। আওয়ামী লীগের টানা ১৫ বছরের শাসনামলে সহকর্মী অনেকের পদোন্নতি হলেও বঞ্চিত হয়েছেন তিনি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলেও বঞ্চিত এমন পুলিশ কর্মকর্তাদের একজন  রায়হান উদ্দিন খান। দীর্ঘদিন তিনি সিআইডিতে কর্মরত ছিলেন। অবেশেষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) পদোন্নতি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

 

রায়হান উদ্দিন খানের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো—

চাকরির বয়স ২০ বছর ৭ মাস হলো।
নিজের বিষয় নিয়ে কখনো কোথাও কিছু বলিনি।
কিন্তু পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে—নীরব থাকা এখন দমবন্ধ মনে হচ্ছে। তাই আর চুপ থাকতে পারছি না।
প্রমোশনের জন্য প্রয়োজনীয় সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী সরকারের সময়ে আমি ১১ বার পদোন্নতিতে সুপারসিড হয়েছি।
এএসপি থেকে অ্যাডিশনাল এসপি প্রমোশনের সময়
২০১২ সালের মার্চ ও জুন—২বার সুপারসিড হয়েছি।
আমাদের ২৪ ব্যাচের অফিসাররা এসপি হিসেবে প্রথম পদোন্নতি পায় ৫ এপ্রিল ২০১৬।
অথচ আমি এসপি পদে প্রমোশন পাই ২০ আগস্ট ২০২৪—প্রায় ৮ বছর ৪ মাস পরে।
অ্যাডিশনাল এসপি থেকে এসপি পদে প্রমোশনের সময়
২০১৬, ২০১৭, ২০১৮, ২০২০, ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩—মোট ৭ বার সুপারসিড হয়েছি।
আমি যখন অ্যাডিশনাল এসপি ছিলাম (২০ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত), তখন আমার ব্যাচমেটদের প্রায় ৮৫% কর্মকর্তা ২০২২ ও ২০২৩ সালে দুই দফায় অ্যাডিশনাল ডিআইজি পদে প্রমোশন পেয়েছেন।
এখানেও আমাকে ২ বার সুপারসিড করা হয়েছে।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট পর্যন্ত আমাকে ২৭ ব্যাচের কর্মকর্তার অধীনে কাজ করতে হয়েছে—যা পেশাগত জীবনে অত্যন্ত অস্বস্তিকর এক অভিজ্ঞতা।
প্রশ্ন একটাই—
সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কেন আমাকে ১১ বার সুপারসিড করা হয়েছিল?
যারা নিয়মিত পদোন্নতি পেয়েছেন, তারা হয়তো এই দীর্ঘ বঞ্চনার মানসিক চাপ পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারবেন না।
শুধু তারাই বুঝবেন—যারা একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন।
পুলিশ বাহিনীতে তাদের সংখ্যা খুব বেশি নয়—হয়তো ১০–১৫ জন।
এখন অনেক তথাকথিত self-declared সাধু-সন্ন্যাসী, পীর ও মোটিভেশনাল স্পিকার সেজে জ্ঞান বিতরণ করছেন এবং বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালন করছেন।
আর কেউ কেউ নতুন করে ‘নব্য রূপ’ ধারণের চেষ্টা করছেন।
আমার বক্তব্য স্পষ্ট—
গত ১৫ বছরে নিজের অবস্থান ও ভূমিকা আগে আত্মসমালোচনার আলোকে পর্যালোচনা করুন,
তারপর নব্য রূপ ধারণ করুন।
সবার ট্র্যাক রেকর্ড আমাদের কাছে আছে। 

সাইবারবার্তা.কম/

শেয়ার করুন

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আরও পড়ুন

নতুন প্রকাশ