সদ্য প্রকাশিত পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল দেখা মাত্রই অনুপ্রবেশকারী মুসলিমরা বাংলাদেশে পালানোর উদ্দেশ্যে রেলস্টেশনে ভিড় করছে। এমন দাবিতে একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি বর্তমানের নয়, পাঁচ মাস পুরোনো। গত বছরের ৩০ নভেম্বর ফেসবুকের একটি পোস্ট অনুযায়ী, এটি বাংলাদেশের বরিশালে অনুষ্ঠিত চরমোনাই পীরের মাহফিলে যোগ দেওয়ার পর ফেরার পথে অনুসারীদের লঞ্চে ওঠার দৃশ্য।

‘কানেক্ট সনাতনী’ নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে গত ৫ মে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ২৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, টুপি-পাঞ্জাবি পরা দাড়িওয়ালা অনেক লোক তাদের মালামাল নিয়ে মই-সদৃশ একটি বস্তুর ওপর দিয়ে কোথাও উঠছেন। ভিডিওর হিন্দিতে লেখা ক্যাপশন বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, “ব্রেকিং নিউজ পশ্চিমবঙ্গের রেল স্টেশনগুলোতে উপচে পড়া ভিড়…নির্বাচনের ফলাফল দেখার সাথে সাথেই অনুপ্রবেশকারীরা নিজে থেকেই বাংলা ছেড়ে বাংলাদেশের দিকে পালাতে শুরু করেছে…হিন্দুরা সাবধান…এই শয়তানরূপী পশুরা আপনাদের শহরেও চলে আসতে পারে…এই দানবদের দেখা মাত্রই নিকটস্থ পুলিশকে খবর দিন।!!
” ( লেখা অপরিবর্তিত)। ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল (১, ২, ৩) থেকেও একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।
অন্যদিকে গত ৪ মে একাধিক (১, ২) এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে একই ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। পোস্টের ক্যাপশন বাংলায় অনুবাদ করলে দেখা যায় সেখানে লেখা, “পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ফলাফল আসতেই সমস্ত #রোহিঙ্গারা পাততাড়ি গুটিয়ে বাংলাদেশের দিকে রওনা দিতে শুরু করেছে” (লেখা অপরিবর্তিত)
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে বিভিন্ন কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখে ডিসমিসল্যাব। যাচাইয়ে ‘লঞ্চ ক্যাপচার’ নামের একটি পেজ থেকে চলতি বছরের ৫ মার্চ প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। ক্যাপশনে লেখা, “হাজার হাজার মুসল্লী দ্রুত সিঁড়ি সাহায্যে লঞ্চে উঠছে।” ২৩ সেকেন্ডের ভিডিওটির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্যপটের হুবহু মিল পাওয়া যায়।
অধিকতর যাচাইয়ে পেজটি যাচাই করতে গিয়ে গত বছরের ৩০ নভেম্বর প্রকাশিত আরেকটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা, “চরমোনাই মাহফিল শেষে শত শত মুসল্লীরা দ্রুত লঞ্চে উঠছে।” ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ৫ই মার্চ প্রকাশিত ভিডিওটির সাথে এই ভিডিওটির লোকজন, সামনে রাখা টেবিল ইত্যাদির সাদৃশ্য রয়েছে। প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করলে ‘ক্লিক পয়েন্ট’ নামের আরেকটি ফেসবুক পেজ থেকেও একই ভিডিওটি গত বছরের ১৬ই ডিসেম্বর পোস্ট হতে দেখা যায়। পোস্টের বিবরণে বলা হয়, “কয়েক হাজার মুসল্লী চরমোনাই মাহফিল শেষ মুহূর্তে লঞ্চে উঠছে।”
অর্থাৎ, নির্বাচনে ফলাফল জানার পর পশ্চিমবঙ্গ থেকে মুসলিম বা রোহিঙ্গাদের পালিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি অন্তত ছয় মাস আগেও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট হতে দেখা গেছে।
একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন (১, ২) থেকে পাওয়া তথ্যমতে, “২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর থেকে তিন দিনব্যাপী ঐতিহাসিক চরমোনাই মাহফিল শুরু হয়েছিল। সেসময় দেশব্যাপী লাখো মুসল্লি আত্মশুদ্ধির জন্য বরিশালের চরমোনাইতে এসেছিলেন।”
প্রসঙ্গত, গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ফলাফল প্রকাশের থেকেই একাধিক ভুয়া দাবির পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। -ডিসমিসল্যাব
ক.ম/


